Headlines

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব নির্বাচন ২০২৬ : তারেক প্রেসিডেন্ট, আকরামসেক্রেটারি ও হান্নান ট্রেজারার

লন্ডন ২৬ জানুয়ারি ২০২৬: লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃটেনে বাংলা মিডিয়ার ৩৩ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনে ১৬৮ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তারেক চৌধুরী। তিনি বাংলা পোস্ট সম্পাদক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এটিএন বাংলা ইউকে’র হেড অব নিউজ সাঈম চৌধুরী পেয়েছেন ১৫৫ ভোট। এনটিভি ইউরোপের চীফ রিপোর্টার মো: আকরামুল হোসেন ১৬৪ ভোট পেয়ে জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলা পোস্টের সালেহ আহমেদ পেয়েছেন ১৫৮ ভোট। মোঃ আব্দুল হান্নান ১৯৮ ভোট পেয়ে ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন । তিনি টু এ নিউজ-এর এডিটর । তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনাজ সুলতানা পেয়েছেন ১২৪ ভোট।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া তারেক-আকরাম-শাহনাজ টিম থেকে ৮ জন সদস্য, সাঈম-সালেহ-হান্নান টিম থেকে ৬ জন সদস্য এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।

২৫ জানুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ইম্প্রেশন ইভেন্টস ভেনুতে উৎসবমুখর আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ৩৩৫ সদস্যের মধ্যে ৩২৫ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। যা মোট ভোটের হিশেবে ৯৭ শতাংশ।

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী, জেনারেল সেক্রেটারি মো. আকরামুল হোসেন এবং ট্রেজারার মো. আব্দুল হান্নান লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য, সম্মান এবং কর্মের যে ধারা চলে আসছে তা আরো বৃদ্ধিতে নিরলস কাজ করে যাবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা এ ক্ষেত্রে সংগঠনের সকল সদস্যের সর্বাত্মক সহযোগিতা, আন্তরিকতা এবং ভালোবাসা প্রত্যাশা করেন।

কে পেলেন কতো ভোট
যুক্তরাজ্যে বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন টানা দুই মেয়াদের জেনারেল সেক্রেটারি ও সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ। তিনি পেয়েছেন ১৬৮ ভোট । তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল কাইয়ুম পেয়েছেন ১৫১ ভোট। ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাদ চৌধুরী বাবু ১৭২ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো: সালাহ উদ্দিন শাহিন ৫১ ভোট ও রেজাউল করিম মৃধা পেয়েছেন ৯৬ ভোট।
এসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি পদে আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ ১৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাকির হোসেন পান ১৩৩ ভোট।
জয়েন্ট ট্রেজারার পদে মোঃ এখলাছুর রহমান পাককু ১৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ ইব্রাহিম খলিল পেয়েছেন ১৪৫ ভোট। অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি পদে আলাউর রহমান খান শাহিন ১৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আফজাল হোসেন পেয়েছেন ১৫৫ ভোট।
মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি পদে ফয়সল মাহমুদ ১৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ আব্দুস সাত্তার মিশু পেয়েছেন ১৩০ ভোট। ইভেন্ট এন্ড ফ‍্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি পদে রুপি আমিন ১৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আনিসুর রহমান আনিস পেয়েছেন ১৩১ভোট।

এছাড়া মো. সরওয়ার হোসেন ২০১ ভোট পেয়ে ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি চার নির্বাচিত এক্সিকিউটিভ মেম্বার হলেন, সাহিদুর রহমান সোহেল, লোকমান হোসেন কাজী, ফারজানা চৌধুরী ও এনামুল হক চৌধুরী।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রথম বৃটিশ বাংলাদেশী জাজ বেলায়েত হোসেন। নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বারের সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহগির বখত ফারুক ও বৃটিশ বাংলাদেশী টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র জেনারেল সেক্রেটারি সিরাজুল বাসিত চৌধুরী। তাদের নেতৃত্বে এবার কাজ করে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী টিম।

বার্ষিক সাধারণ সভা:
এর আগে দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা।
এরপর শুরু হয় ভোটগ্রহণ। বিকেল আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সদস্যরা ভোট প্রয়োগ করেন।

সন্ধ্যায় ছিলো লাইফ মেম্বার রিসিপশন, এলবিপিসি মিডিয়া এওয়ার্ড, এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

এজিএম-এর শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সদ্যবিদায়ী সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের। তিনি তাঁর মেয়াদকালের বিভিন্ন ইতিবাচক কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কমিটমেন্ট করা, কমিটমেন্টে থাকা এবং কমিটমেন্ট রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। আশাকরি যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব আরো সমৃদ্ধি আনবেন। তিনি বিদায়ী কার্যকরী কমিটির সদস্যদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশংসা করে তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেই সাথে ক্লাবের ৬৫ জন নতুন সদস্যসহ ৩৩৫জন সদস্যকে অভিনন্দন জানান।

সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশকালে তাইসির মাহমুদ বলেন, মর্যাদার সাথে ক্লাবকে কমিউনিটির কাছে তুলে ধরতে চেয়েছি গত দুইটি বছর। আমরা আশা করি সফল হয়েছি।
তিনি এই বছর অনলাইন মেম্বারশীপ পদ্ধতি চালু এবং দেশজুড়ে ২০টি মিডিয়া এওয়ার্ড প্রবর্তন করাকে ক্লাবের অন্যতম দুটি সফল কাজ হিশেবে উল্লেখ করেন।

বিদায়ী ট্রেজারার সালেহ আহমেদ আর্থিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। জানান, ক্লাবে প্রায় ২২১ হাজার পাউন্ডের সম্পদ রয়েছে।

এজিএম-এ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মুহাম্মদ জুবায়ের ও তাইসির মাহমুদ। এজিএম-এর শেষ পর্যায়ে বিশিষ্ট সাংবাদিক মার্ক টালির মৃত্যুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন উপলক্ষে ইস্ট লন্ডনের ইম্প্রেশন ইভেন্ট ভেনু সাংবাদিকদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। এতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে তিন শতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য আপসানা বেগম। তিনি তার বক্তব্যে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর সাথে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা আমাদের কমিউনিটির উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব এবং সাংবাদিকতার উন্নয়নে আপসানা বেগম তার পক্ষ থেকে সম্ভব সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

সমাপ্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *