Headlines

কাউন্সিলের বাড়ি-ঘরের উন্নয়ন ও সংস্কার:£৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশালবিনিয়োগ করবে টাওয়ার হ্যামলেটস*

  • কাউন্সিল হাউজিংয়ের উন্নয়নে টাওয়ার হ্যামলেটসের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ অনুমোদন : মেয়র লুৎফর
  • টাওয়ার হ্যামলেটসের ইতিহাসে কাউন্সিল হাউজিংয়ের উন্নয়নে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ আজ (বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুমোদিত হয়েছে।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল তাদের মালিকানাধীন হাউজিং স্টকে মূলধনী উন্নয়নে ৫২০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে, যাতে সব ভাড়াটিয়া একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী বাড়িতে বসবাস করতে পারেন। এটি আগামী ১০ বছর মেয়াদি মোট ৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল বিনিয়োগের অংশ।

এই কর্মসূচি কাউন্সিলের ডেডিকেটেড হাউজিং ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির অংশ এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে ১০০ পার সেন্ট কাউন্সিল হোমকে ‘ডিসেন্ট হোমস্’ মানদণ্ডে উন্নীত করার অঙ্গীকারের অন্তর্ভুক্ত।

মোট বিনিয়োগের মধ্যে ২৪০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে ‘ডিসেন্ট হোমস’ কর্মসূচিতে, যাতে প্রতিটি কাউন্সিল ভাড়াটিয়া একটি আধুনিক রান্নাঘর ও বাথরুম, ডাবল গ্লেজড জানালা এবং একটি নতুন জ্বালানি সাশ্রয়ী রুফ বা ছাদ পাবেন। ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে বিল্ডিং সেফটি তথা ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত কাজে এবং ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে বড় ধরনের মেরামত ও উন্নয়ন, এর মধ্যে রয়েছে লিফট মেরামত ও পুনঃস্থাপন।

টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান এই বিশাল বিনিয়োগ তহবিল সম্পর্কে বলেন, “এটি টাওয়ার হ্যামলেটসের ইতিহাসে আমাদের কাউন্সিলের বাড়িগুলোর উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ, এবং এটি আমাদের বাসিন্দাদের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রম্নতির প্রতিফলন। আমাদের বাসিন্দারা সর্বোত্তম সেরা সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, এবং এই বিনিয়োগ টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিল মালিকানাধীন হাউজিংয়ের জন্য একটি রূপান্তরমূলক পরিবর্তনের সূচনা করবে। আগামী দশ বছরে আমরা বাড়িগুলো আধুনিক করবো, নিরাপত্তা বাড়াবো, এবং আমাদের এস্টেটগুলোকে (আবাসিক এলাকা) আরও উষ্ণ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলব।”

মেয়র বলেন, “সামাজিক আবাসনের ক্ষেত্রে আমাদের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে, এবং এই বিনিয়োগ সেই ঐতিহ্য উন্নত করার একটি অপরিহার্য অংশ। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি বাসিন্দার জন্য মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের এমন একটি ঘর বা বাড়ি দেওয়া, যেটি নিয়ে তারা গর্ব অনুভব করতে পারেন।”

“আমরা জানি—এবং আমরা ইতিমধ্যে—প্রয়োজন মেটাতে ও অতিরিক্ত ভিড় মোকাবিলা করতে নতুন ঘর-বাড়ি নির্মাণ করছি, তবে আমাদের বিদ্যমান বাড়িগুলোরও উন্নতি করতে হবে, এবং এই বিনিয়োগ নিশ্চিত করবে যে আমরা দুটো কাজই করতে পারব।”

হাউজিং ইম্প্রুভমেন্ট অর্থাৎ কাউন্সিল মালিকানাধীন বাড়ি ঘরের উন্নয়নের পাশাপাশি, এই কর্মসূচি স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে এবং সংশোধিত ক্রয় কৌশলের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ব্যবসার জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

নতুন পরিকল্পনায় প্রস্তাব করা হয়েছে যে, কাজ সম্পাদনের জন্য একটি বড় কোম্পানির ওপর নির্ভর না করে একটি মিশ্র চুক্তিভিত্তিক মডেল গ্রহণ করা হবে, যার মাধ্যমে চারটি এসএমইসহ মোট আটটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হবে।

করপোরেট ডিরেক্টর অব হাউজিং এন্ড রিজেনারেশন, ডেভিড জয়েস বলেন, “এই কর্মসূচি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় একটি বড় অগ্রগতি নির্দেশ করে, যার লক্ষ্য হলো প্রতিটি বাসিন্দাকে একটি নিরাপদ, আধুনিক বাড়ি প্রদান করা। বাড়িগুলোর কাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা ভবন—নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করছি এবং নিরাপত্তা ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”

কর্পোরেট ডিরেক্টর আরও বলেন, “এই বিনিয়োগ শুধু বাড়িঘরের উন্নয়নের জন্য নয়, বরং আমাদের কমিউনিটির ভবিষ্যতের জন্যও। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে আমাদের আবাসন ব্যবস্থা আগামী প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাসিন্দাদের উপকারে আসবে।”

রিজেনারেশন, ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট এবং হাউজবিল্ডিং বিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য, কাউন্সিলর কবির আহমেদ বলেন, “এই মিশ্র অর্থনৈতিক মডেল কাউন্সিলকে আরও বেশি নমনীয়তা অর্থাৎ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দেবে, যাতে প্রতিটি প্রকল্পের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়া যায়। এর ফলে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং বাসিন্দারা দ্রুত ফলাফল পাবেন। যদি কোনো ঠিকাদার আমাদের বাসিন্দাদের প্রাপ্য মান অনুযায়ী কাজ না করে, তাহলে সেই কাজ অন্য কোনো ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করা যাবে।

তিনি বলেন, “আমরা নতুন পারফরমেন্স মনিটরিং প্রসিডিওর বা কর্মসম্পাদন পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি চালু করব, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে আমাদের সঙ্গে কাজ করা প্রতিটি ঠিকাদার সময়মতো এবং সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করছে।”

সংশোধিত ক্রয় কৌশল কাউন্সিলের উচ্চমানের বাড়ি এবং সমৃদ্ধনেইবারহুড গড়ে তোলার বিস্তৃত অঙ্গীকারকে সমর্থন করে। এই বিনিয়োগটি বারার কাউন্সিল—মালিকানাধীন ৩৭টি স্থানে সর্বোচ্চ ৩,৩৩২টি নতুন বাড়ি দ্রুত নির্মাণের একটি উচ্চাভিলাষী হাউসবিল্ডিং কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে।

স্থিতিশীলতা (রেজিলিয়েন্স), কাজ সম্পাদনের সক্ষমতা (ক্যাপাসিটি) এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহাররের (ভেল্যু ফর মানি) নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে এসব পরিবর্তন মানসম্মত বাড়িঘর ও সমৃদ্ধ আবাসিক এলাকা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এই নতুন গুরুত্বের ফলে নিশ্চিত করা হবেঃ

  • জরুরি মেরামত ও বড় ধরনের উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা
  • কাজের মান ও নিরাপত্তার আরও উচ্চতর মান বজায় রাখা
  • উন্নত জ্বালানি দক্ষতা ও পরিবেশগত সুবিধা বৃদ্ধি
  • বড় প্রকল্প চলাকালীন সময়জুড়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে আরও নিয়মিত ও স্পষ্ট যোগাযোগ
  • স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসার জন্য বেশি অর্থনৈতিক সুযোগ ও সুবিধা সৃষ্টি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *